শুরুর পাঠ
ব্লকচেইন কী এবং কীভাবে কাজ করে?
ব্লকচেইন হলো এমন একটি ডিজিটাল হিসাবের খাতা, যার কপি অনেক কম্পিউটারে একসঙ্গে থাকে এবং যেখানে লেখা তথ্য পরে বদলানো প্রায় অসম্ভব। উদাহরণ দিয়ে সহজভাবে বুঝুন।
২ মিনিটে পড়া · সর্বশেষ যাচাই: ১৪ অক্টোবর ২০২৬
খাতার উদাহরণ দিয়ে শুরু
ধরুন, একটি গ্রামের সমিতিতে সবাই টাকা জমা রাখে, আর হিসাব থাকে ক্যাশিয়ারের খাতায়। ক্যাশিয়ার চাইলে খাতায় কারসাজি করতে পারেন, আর খাতা হারিয়ে গেলে সব হিসাবও হারায়।
এবার ভাবুন, সমিতির প্রত্যেক সদস্যের কাছে খাতার একটি করে কপি আছে। নতুন কোনো লেনদেন হলে সবাই নিজের কপিতে লিখে নেন, আর লেখার আগে মিলিয়ে দেখেন সেটা ঠিক কি না। এখন একজন কারসাজি করলেও বাকিদের কপির সঙ্গে মিলবে না, তাই ধরা পড়বে। মোটামুটি এটাই ব্লকচেইনের মূল ধারণা।
"ব্লক" আর "চেইন" কেন?
- ব্লক: কয়েক মিনিটের লেনদেনগুলো একসঙ্গে একটি পাতায় (ব্লকে) লেখা হয়।
- চেইন: প্রতিটি নতুন ব্লকে আগের ব্লকের একটি ডিজিটাল "আঙুলের ছাপ" (হ্যাশ) থাকে। ফলে ব্লকগুলো শিকলের মতো একটির সঙ্গে আরেকটি যুক্ত থাকে।
পুরোনো কোনো ব্লকে একটি সংখ্যা বদলালেই তার আঙুলের ছাপ বদলে যাবে, আর পরের সব ব্লকের সঙ্গে আর মিলবে না। জালিয়াতি করতে হলে পুরো শিকল নতুন করে বানাতে হবে, এবং নেটওয়ার্কের অর্ধেকের বেশি কম্পিউটারকে রাজি করাতে হবে। বড় নেটওয়ার্কে এটা কার্যত অসম্ভব।
কে নতুন ব্লক যোগ করে?
প্রতিটি ব্লকচেইনের একটি নিয়ম থাকে, যাকে বলে কনসেনসাস বা ঐকমত্যের পদ্ধতি। দুটি প্রধান পদ্ধতি:
| পদ্ধতি | কীভাবে কাজ করে | উদাহরণ |
|---|---|---|
| প্রুফ অব ওয়ার্ক | মাইনাররা বিদ্যুৎ ও কম্পিউটার খরচ করে কঠিন ধাঁধা মেলান | বিটকয়েন |
| প্রুফ অব স্টেক | যাঁরা কয়েন জামানত রাখেন, তাঁদের মধ্য থেকে যাচাইকারী বাছাই হয় | ইথেরিয়াম |
বিস্তারিত পড়ুন: বিটকয়েন মাইনিং কীভাবে কাজ করে।
ব্লকচেইনের সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা
সুবিধা
- কোনো একক প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হয় না।
- সব লেনদেন প্রকাশ্য, তাই যে কেউ যাচাই করতে পারে।
- একবার লেখা তথ্য বদলানো প্রায় অসম্ভব।
সীমাবদ্ধতা
- সাধারণ ডেটাবেসের তুলনায় ধীর ও ব্যয়বহুল।
- ভুল লেনদেন ফেরানোর কোনো "কাস্টমার কেয়ার" নেই।
- খাতা নিরাপদ হলেও আপনার ফোন, পাসওয়ার্ড বা গোপন চাবি নিরাপদ না হলে টাকা হারাতে পারেন।
- "ব্লকচেইন" শব্দটি প্রায়ই প্রতারণামূলক প্রকল্পে বিশ্বাসযোগ্যতা দেখাতে ব্যবহৃত হয়।
কেউ "ব্লকচেইনভিত্তিক" বলে নিশ্চিত মুনাফার প্রকল্প দেখালে সতর্ক হোন। প্রযুক্তির নাম ব্যবহার করলেই কোনো প্রকল্প নিরাপদ হয়ে যায় না। দেখুন ক্রিপ্টো প্রতারণা চেনার উপায়।
ক্রিপ্টোর বাইরে ব্লকচেইন
সাপ্লাই চেইনে পণ্যের উৎস যাচাই, ডিজিটাল সনদ বা জমির রেকর্ডের মতো কাজে ব্লকচেইন ব্যবহার নিয়ে বিশ্বজুড়ে পরীক্ষা চলছে। বাংলাদেশ সরকারও ক্রিপ্টোর বাইরে ব্লকচেইন প্রযুক্তি নিয়ে নীতি প্রণয়নের কাজ করছে, তবে সেখানে ক্রিপ্টোকারেন্সিকে আলাদা রাখা হয়েছে এবং তা বাংলাদেশ ব্যাংকের এখতিয়ারে।
মনে রাখার মতো কথা
- ব্লকচেইন হলো অনেক কম্পিউটারে একসঙ্গে রাখা একটি খাতা, যা বদলানো প্রায় অসম্ভব।
- খাতা নিরাপদ হলেও ব্যবহারকারীর ভুল বা প্রতারণা থেকে এটি রক্ষা করে না।
- "ব্লকচেইন" শব্দটি কোনো প্রকল্পের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নয়।
সাধারণ প্রশ্ন
ব্লকচেইন আর বিটকয়েন কি একই জিনিস?
ব্লকচেইন কি হ্যাক করা যায়?
সম্পর্কিত লেখা
বিটকয়েন কী? সহজ বাংলায় পুরো ধারণা
বিটকয়েন হলো ইন্টারনেটভিত্তিক একটি ডিজিটাল মুদ্রা, যা কোনো ব্যাংক বা সরকার নিয়ন্ত্রণ করে না। এটি কীভাবে কাজ করে, কেন…
বিটকয়েন মাইনিং কীভাবে কাজ করে?
মাইনিং হলো বিটকয়েন নেটওয়ার্কে নতুন ব্লক যোগ করার প্রক্রিয়া, যার পুরস্কার হিসেবে নতুন বিটকয়েন তৈরি হয়। এর জন্য কেন…
ইথেরিয়াম কী? বিটকয়েনের সঙ্গে পার্থক্য
ইথেরিয়াম এমন একটি ব্লকচেইন, যেখানে শুধু লেনদেন নয়, "স্মার্ট কন্ট্র্যাক্ট" নামের প্রোগ্রামও চলে। ইথার (ETH), গ্যাস…