শুরুর পাঠ

বিটকয়েন কী? সহজ বাংলায় পুরো ধারণা

বিটকয়েন হলো ইন্টারনেটভিত্তিক একটি ডিজিটাল মুদ্রা, যা কোনো ব্যাংক বা সরকার নিয়ন্ত্রণ করে না। এটি কীভাবে কাজ করে, কেন এর দাম এত বেশি ওঠানামা করে, আর বাংলাদেশে এর অবস্থান কী, জেনে নিন।

৩ মিনিটে পড়া · সর্বশেষ যাচাই: ১৪ অক্টোবর ২০২৬

এক কথায় বিটকয়েন

বিটকয়েন হলো একটি ডিজিটাল মুদ্রা, যার কোনো কাগুজে নোট বা কয়েন নেই। এটি শুধু ইন্টারনেটে একটি হিসাবের খাতায় সংখ্যা হিসেবে থাকে। সাধারণ টাকার হিসাব রাখে ব্যাংক, আর টাকা ছাপায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিটকয়েনের ক্ষেত্রে এমন কোনো কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান নেই। বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার কম্পিউটার মিলে একই খাতার কপি রাখে এবং নতুন লেনদেন যাচাই করে।

এই খাতাকে বলে ব্লকচেইন। এতে একবার কোনো লেনদেন লেখা হলে তা বদলানো বা মুছে ফেলা প্রায় অসম্ভব।

বিটকয়েন কীভাবে কাজ করে?

ধরুন, রহিম করিমকে কিছু বিটকয়েন পাঠাতে চান। প্রক্রিয়াটি মোটামুটি এরকম:

  1. রহিমের একটি ওয়ালেট আছে, যেখানে তাঁর গোপন চাবি (প্রাইভেট কি) রাখা। এই চাবি দিয়ে তিনি লেনদেনে "সই" করেন।
  2. লেনদেনটি নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়ে। নেটওয়ার্কের কম্পিউটারগুলো দেখে, রহিমের কাছে আসলেই সেই বিটকয়েন আছে কি না।
  3. মাইনাররা অনেকগুলো লেনদেন একসঙ্গে একটি "ব্লকে" সাজিয়ে কঠিন গাণিতিক কাজের মাধ্যমে খাতায় যোগ করেন। এর বিনিময়ে তাঁরা নতুন বিটকয়েন ও লেনদেন ফি পান।
  4. কয়েকটি ব্লক যোগ হয়ে গেলে লেনদেনটি কার্যত স্থায়ী হয়ে যায়।

খেয়াল করুন, এখানে কোনো ব্যাংক নেই। সুবিধা হলো কেউ ইচ্ছেমতো লেনদেন আটকাতে পারে না। অসুবিধা হলো ভুল ঠিকানায় পাঠালে বা প্রতারকের হাতে দিলে টাকা ফেরত পাওয়ার কোনো উপায় থাকে না।

বিটকয়েনের বৈশিষ্ট্য

বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা
সীমিত সরবরাহ মোট ২ কোটি ১০ লাখের বেশি বিটকয়েন কখনো হবে না
বিকেন্দ্রীভূত কোনো একক প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করে না
ছদ্মনামী নাম নয়, ঠিকানা দিয়ে লেনদেন হয়, তবে সব লেনদেন প্রকাশ্যে দেখা যায়
বিভাজ্য ১ বিটকয়েন = ১০ কোটি সাতোশি
অপরিবর্তনীয় নিশ্চিত হওয়া লেনদেন ফেরানো যায় না

বিটকয়েনের দাম কে ঠিক করে?

কেউ একা ঠিক করে না। বিশ্বজুড়ে এক্সচেঞ্জগুলোতে মানুষ যে দামে কেনাবেচা করে, সেটাই বাজারদর। চাহিদা বাড়লে দাম বাড়ে, কমলে কমে। বিটকয়েনের পেছনে কোনো কোম্পানির আয় বা সরকারের নিশ্চয়তা নেই, তাই দাম অনেক বেশি ওঠানামা করে। এক বছরে অর্ধেকে নেমে আসা বা দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার ঘটনা বহুবার ঘটেছে।

আজকের দাম টাকায় দেখতে পারেন বিটকয়েনের দামের পাতায়।

মানুষ বিটকয়েন নিয়ে আগ্রহী কেন?

  • সীমিত সরবরাহ: অনেকে মনে করেন, সংখ্যা নির্দিষ্ট বলে এটি "ডিজিটাল সোনা"-র মতো মূল্য ধরে রাখতে পারে।
  • সীমান্তহীন: ইন্টারনেট থাকলে বিশ্বের যেকোনো জায়গায় পাঠানো যায়।
  • প্রযুক্তির নতুনত্ব: ব্লকচেইন প্রযুক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে গবেষণা ও বিনিয়োগ হচ্ছে।

অন্যদিকে সমালোচকরা বলেন, এর নিজস্ব কোনো মৌলিক মূল্য নেই, দাম মূলত জল্পনানির্ভর, আর মাইনিংয়ে প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ হয়। দুই পক্ষের যুক্তিই জেনে রাখা ভালো।

বাংলাদেশে বিটকয়েনের অবস্থান

বাংলাদেশ ব্যাংক একাধিকবার জানিয়েছে যে বিটকয়েনসহ ভার্চুয়াল মুদ্রায় লেনদেন অনুমোদিত নয়। এতে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি থাকতে পারে। ২০২২ সালের সার্কুলারে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিকাশ-নগদের মতো মোবাইল আর্থিক সেবাকে ক্রিপ্টো লেনদেন থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

তাই বিটকয়েন সম্পর্কে জানা আর বিটকয়েনে লেনদেন করা এক জিনিস নয়। বিস্তারিত সময়রেখা ও সূত্র পাবেন বাংলাদেশে ক্রিপ্টোর আইনি অবস্থা পাতায়।

মনে রাখার মতো কথা

  • বিটকয়েন একটি ডিজিটাল মুদ্রা, যা কোনো ব্যাংক বা সরকার চালায় না।
  • এর দাম অত্যন্ত অস্থির; কেউ নিশ্চিত মুনাফার কথা বললে সেটা প্রতারণার লক্ষণ।
  • লেনদেন ফেরত আনা যায় না, তাই ভুল বা প্রতারণার শিকার হলে টাকা হারানোর ঝুঁকি বেশি।
  • বাংলাদেশে বিটকয়েন লেনদেন অনুমোদিত নয়।

পরের ধাপে পড়ুন: ব্লকচেইন কী এবং কীভাবে কাজ করে।

সাধারণ প্রশ্ন

বিটকয়েন কে আবিষ্কার করেছেন?
২০০৮ সালে "সাতোশি নাকামোতো" ছদ্মনামে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়, আর ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে বিটকয়েন নেটওয়ার্ক চালু হয়। সাতোশি নাকামোতোর আসল পরিচয় আজও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
বিটকয়েন কি আসল টাকা?
বিটকয়েন কোনো দেশের বৈধ মুদ্রা (লিগ্যাল টেন্ডার) নয়, শুধু এল সালভাদরের মতো হাতে গোনা কয়েকটি দেশ এর ব্যতিক্রম। বাংলাদেশে এটি স্বীকৃত মুদ্রা নয় এবং এতে লেনদেন অনুমোদিত নয়।
মোট কতগুলো বিটকয়েন আছে?
নিয়ম অনুযায়ী মোট ২ কোটি ১০ লাখের (২১ মিলিয়ন) বেশি বিটকয়েন কখনো তৈরি হবে না। এর বেশিরভাগ ইতিমধ্যে তৈরি হয়ে গেছে; বাকিগুলো ধীরে ধীরে আগামী শতকজুড়ে তৈরি হবে।

সম্পর্কিত লেখা