বাংলাদেশে বিটকয়েন ও ক্রিপ্টো কি বৈধ? আইনি অবস্থা ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন অনুমোদন করে না, আর ২০২২ সালের সার্কুলারে ব্যাংক ও বিকাশ-নগদের মতো মোবাইল আর্থিক সেবাকে এ ধরনের লেনদেনে নিষেধ করা হয়েছে। সময়রেখা, আইনের ভিত্তি ও সূত্রসহ সহজ ব্যাখ্যা।
সর্বশেষ যাচাই: ১৪ অক্টোবর ২০২৬
সংক্ষেপে
- লেনদেন অনুমোদিত নয়: বাংলাদেশ ব্যাংক বিটকয়েনসহ কোনো ভার্চুয়াল মুদ্রা বা সম্পদে লেনদেন অনুমোদন করে না।
- ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবায় নিষেধ: ২০২২ সালের সার্কুলার অনুযায়ী ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিকাশ-নগদের মতো মোবাইল আর্থিক সেবা দিয়ে ভার্চুয়াল সম্পদ কেনাবেচা, বিনিময় বা স্থানান্তর করা যাবে না। এ ধরনের ব্যবসায় সহায়তা করাও নিষেধ।
- বৈধ মুদ্রা নয়: ক্রিপ্টোকারেন্সি বাংলাদেশে স্বীকৃত মুদ্রা বা "লিগ্যাল টেন্ডার" নয়।
- অনুমোদিত এক্সচেঞ্জ নেই: দেশে কোনো ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বা ভার্চুয়াল সম্পদ সেবাদাতা অনুমোদিত নয়।
- শুধু রাখা নিয়ে অস্পষ্টতা: কোনো আইনে শুধু ক্রিপ্টো রাখাকে আলাদাভাবে অপরাধ বলা হয়নি, আর বিভিন্ন সূত্রে বিষয়টি অস্পষ্ট বলা হয়। তবে কেনা, বেচা বা স্থানান্তর ছাড়া ক্রিপ্টো পাওয়া বা ব্যবহার করা কার্যত সম্ভব নয়।
কোন আইনের কথা বলা হয়
বাংলাদেশ ব্যাংক তার বিজ্ঞপ্তিগুলোতে মূলত তিনটি আইনের কথা উল্লেখ করেছে:
| আইন | কেন প্রাসঙ্গিক |
|---|---|
| বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭ | ভার্চুয়াল মুদ্রা স্বীকৃত "মুদ্রা" নয়; বিদেশি প্ল্যাটফর্মে লেনদেন বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের নিয়ম লঙ্ঘন করতে পারে |
| মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ | পরিচয়হীন ও সীমান্তহীন লেনদেন অর্থ পাচারের ঝুঁকি তৈরি করে |
| সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ | সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি |
সাধারণ মানুষের জন্য এর মানে কী
- লেনদেনে আইনি ঝুঁকি আছে। বিশেষ করে ব্যাংক বা মোবাইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ক্রিপ্টো কেনাবেচা করলে অ্যাকাউন্ট নজরদারিতে আসতে বা বন্ধ হতে পারে।
- প্রতারিত হলে সুরক্ষা কম। লেনদেনটিই অনুমোদিত না হওয়ায় টাকা উদ্ধার বা আইনি প্রতিকার পাওয়া কঠিন।
- "বাংলাদেশে অনুমোদিত" দাবি মিথ্যা। কোনো প্ল্যাটফর্ম এমন দাবি করলে সেটি প্রতারণার লক্ষণ।
- রেমিট্যান্সে ক্রিপ্টো নয়। প্রবাস থেকে টাকা পাঠাতে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করুন; ক্রিপ্টো বা অনানুষ্ঠানিক চ্যানেল আইন লঙ্ঘন ও প্রতারণা দুটোরই ঝুঁকি তৈরি করে।
ব্লকচেইন প্রযুক্তি আলাদা বিষয়
ক্রিপ্টোকারেন্সি আর ব্লকচেইন প্রযুক্তি এক জিনিস নয়। সরকার ক্রিপ্টোর বাইরে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য নীতি প্রণয়ন করছে। ২০২৬ সালের জাতীয় ব্লকচেইন নীতির খসড়ায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, ক্রিপ্টো ট্রেডিং, ভার্চুয়াল মুদ্রা এক্সচেঞ্জ ও ক্রিপ্টোর আইনি মর্যাদা সংক্রান্ত বিষয় বাংলাদেশ ব্যাংকের এখতিয়ারে থাকবে। দেখুন ব্লকচেইন কী।
এই পাতা সম্পর্কে
এই পাতা প্রকাশিত সংবাদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তির প্রতিবেদন এবং সরকারি নথির ভিত্তিতে তৈরি। নিচের সময়রেখায় প্রতিটি ঘটনার সূত্র দেওয়া আছে। ২০১৪ সালের প্রথম সতর্কতার মূল নথি আমরা খুঁজে পাইনি, তাই সেটি "উল্লেখ পাওয়া যায়" হিসেবে রাখা হয়েছে। নিয়ম বদলালে বা নতুন তথ্য এলে পাতাটি হালনাগাদ করা হবে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে ক্রিপ্টোর ঝুঁকি, ক্রিপ্টো প্রতারণা চেনার উপায়।
সময়রেখা
-
২০১৪
প্রথম সতর্কতা (উল্লেখ পাওয়া যায়)
আইন বিষয়ক বিভিন্ন লেখায় উল্লেখ আছে যে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৪ সালে বিটকয়েন ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রথম সতর্কতা দেয়। মূল নথি আমরা যাচাই করতে পারিনি।
সূত্র: Mahbub & Company
-
২৪ ডিসেম্বর ২০১৭
ভার্চুয়াল মুদ্রায় লেনদেন থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা
বাংলাদেশ ব্যাংক গণমাধ্যম ও ওয়েবসাইটে সতর্কবার্তা দিয়ে বিটকয়েন, ইথেরিয়াম, রিপল, লাইটকয়েনসহ ভার্চুয়াল মুদ্রায় লেনদেন থেকে বিরত থাকতে বলে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের কথা উল্লেখ করা হয়।
-
২৯ জুলাই ২০২১
"ক্রিপ্টো লেনদেন অনুমোদিত নয়": বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাখ্যা
সিআইডিকে দেওয়া একটি চিঠির অংশবিশেষ প্রকাশের পর বিভ্রান্তি তৈরি হলে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, কোনো ধরনের ভার্চুয়াল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি রাখা বা লেনদেন অনুমোদিত নয়, এবং সবাইকে এ ধরনের লেনদেন এড়িয়ে চলতে বলে।
সূত্র: The Daily Star
-
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২
সার্কুলার: ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবায় নিষেধ
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগের সার্কুলারে (এফই সার্কুলার নং ২৪) দেশে কার্যরত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ভার্চুয়াল সম্পদ ও মুদ্রায় লেনদেন থেকে বিরত থাকতে এবং এ ধরনের ব্যবসায় সহায়তা না করতে বলা হয়। একজন কর্মকর্তা জানান, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিকাশ-নগদের মতো মোবাইল আর্থিক সেবাদাতারা ভার্চুয়াল সম্পদ বিনিময়, স্থানান্তর বা কেনাবেচা করতে পারবে না।
-
অক্টোবর ২০২২
ব্যাংকগুলোকে নজরদারির নির্দেশ (উল্লেখ পাওয়া যায়)
আইনি পর্যালোচনায় উল্লেখ আছে, একটি সার্কুলার লেটারে (বিআরপিডি সার্কুলার লেটার নং ৪০) ব্যাংকগুলোকে ভার্চুয়াল সম্পদ সেবাদাতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেন নজরদারি ও প্রতিরোধ করতে বলা হয়।
সূত্র: Global Law Experts
-
আগস্ট ২০২৩
এমটিএফইর ধস
ক্রিপ্টো ও ডলারে "ট্রেডিং"-এর নামে নিয়মিত মুনাফার প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্ল্যাটফর্ম এমটিএফই হঠাৎ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। অসংখ্য বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হন; সিআইডি তদন্ত শুরু করে। দেখুন এমটিএফই থেকে শিক্ষা।
সূত্র: Dhaka Tribune
-
২০২৬
ব্লকচেইন নীতির খসড়ায় ক্রিপ্টো বাদ
আইসিটি বিভাগের জাতীয় ব্লকচেইন নীতি ২০২৬-এর খসড়ায় বলা হয়, ক্রিপ্টো ট্রেডিং, ভার্চুয়াল মুদ্রা এক্সচেঞ্জ, ক্রিপ্টো সম্পদের বাজার এবং মুদ্রা বা বৈধ মুদ্রা হিসেবে ক্রিপ্টোর আইনি মর্যাদা সংক্রান্ত বিষয় একচেটিয়াভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এখতিয়ারে থাকবে।