শুরুর পাঠ

ক্রিপ্টো ওয়ালেট কী? প্রাইভেট কি, সিড ফ্রেজ ও ঠিকানা

ক্রিপ্টো ওয়ালেটে আসলে কয়েন থাকে না, থাকে আপনার গোপন চাবি। হট ও কোল্ড ওয়ালেট, কাস্টোডিয়াল ও নন-কাস্টোডিয়াল ওয়ালেটের পার্থক্য এবং "চাবি যার, কয়েন তার" কথাটির মানে জানুন।

২ মিনিটে পড়া · সর্বশেষ যাচাই: ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ওয়ালেটে আসলে কী থাকে?

নাম "ওয়ালেট" হলেও এতে কোনো কয়েন জমা থাকে না। সব কয়েন থাকে ব্লকচেইনের খাতায়। ওয়ালেটে থাকে সেই কয়েন খরচ করার চাবি।

  • পাবলিক অ্যাড্রেস (ঠিকানা): ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরের মতো। এটি অন্যকে দিলে তিনি আপনাকে কয়েন পাঠাতে পারেন।
  • প্রাইভেট কি (গোপন চাবি): একটি লম্বা গোপন সংখ্যা, যা দিয়ে লেনদেনে সই করা হয়। এটি যার কাছে আছে, কয়েন কার্যত তার।
  • সিড ফ্রেজ (রিকভারি ফ্রেজ): ১২ বা ২৪টি ইংরেজি শব্দের একটি তালিকা, যা থেকে আপনার সব প্রাইভেট কি আবার তৈরি করা যায়। এটিই আপনার ওয়ালেটের মাস্টার চাবি।

সিড ফ্রেজ বা প্রাইভেট কি কাউকে দেওয়া মানে আপনার সব কয়েন তাকে দিয়ে দেওয়া। কোনো আসল কোম্পানি, সাপোর্ট টিম বা "অ্যাডমিন" কখনো এটি চায় না। বিস্তারিত: সিড ফ্রেজ নিরাপত্তা।

কাস্টোডিয়াল বনাম নন-কাস্টোডিয়াল

ধরন চাবি কার কাছে সুবিধা ঝুঁকি
কাস্টোডিয়াল (এক্সচেঞ্জের অ্যাকাউন্ট) প্রতিষ্ঠানের কাছে পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে উদ্ধার সহজ প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া, হ্যাক বা অ্যাকাউন্ট বন্ধ করলে কয়েন আটকে যায়
নন-কাস্টোডিয়াল (নিজের ওয়ালেট) আপনার কাছে পুরো নিয়ন্ত্রণ আপনার সিড ফ্রেজ হারালে বা চুরি হলে কেউ সাহায্য করতে পারে না

ক্রিপ্টো জগতে একটি প্রচলিত কথা আছে: "নট ইওর কিজ, নট ইওর কয়েনস", মানে চাবি আপনার না হলে কয়েনও আসলে আপনার না। ২০২২ সালে এফটিএক্স এক্সচেঞ্জ দেউলিয়া হলে লাখো গ্রাহকের অর্থ আটকে যায়। ঘটনাটি এই কথার গুরুত্ব দেখিয়েছে।

হট ওয়ালেট বনাম কোল্ড ওয়ালেট

  • হট ওয়ালেট: ইন্টারনেটে যুক্ত ফোন বা কম্পিউটারের অ্যাপ। ব্যবহার সহজ, কিন্তু ভাইরাস, ভুয়া অ্যাপ ও ফিশিংয়ের ঝুঁকি বেশি।
  • কোল্ড ওয়ালেট: চাবি ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে, যেমন হার্ডওয়্যার ওয়ালেট (ছোট একটি যন্ত্র) বা কাগজে লেখা চাবি। হ্যাকের ঝুঁকি কম, কিন্তু হারানো বা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ওয়ালেট ব্যবহারে সাধারণ ভুল

  1. ভুল নেটওয়ার্কে পাঠানো: একই টোকেন একাধিক ব্লকচেইনে থাকতে পারে (যেমন ইউএসডিটি)। ভুল নেটওয়ার্কে পাঠালে কয়েন হারাতে পারে।
  2. ঠিকানা কপি-পেস্টে ভুল: কিছু ম্যালওয়্যার কপি করা ঠিকানা বদলে দেয়। পাঠানোর আগে শুরু ও শেষের কয়েকটি অক্ষর মিলিয়ে নিন।
  3. সিড ফ্রেজের ছবি তুলে রাখা: ফোন বা ক্লাউডে থাকা ছবি হ্যাক হলে সব হারাবেন।
  4. প্লে স্টোরে নাম দেখে অ্যাপ নামানো: নকল অ্যাপ প্রায়ই আসল নামের মতো দেখতে হয়। দেখুন ভুয়া অ্যাপ ও ফিশিং।

মনে রাখার মতো কথা

  • ওয়ালেটে কয়েন নয়, চাবি থাকে।
  • সিড ফ্রেজ = আপনার সব কয়েন। কাউকে দেবেন না, অনলাইনে রাখবেন না।
  • এক্সচেঞ্জের অ্যাকাউন্টে রাখা মানে প্রতিষ্ঠানের ওপর ভরসা করা।
  • ব্লকচেইনে ভুল লেনদেন ফেরত আনা যায় না।

সাধারণ প্রশ্ন

ওয়ালেটের ঠিকানা কাউকে দিলে কি ঝুঁকি আছে?
ঠিকানা (পাবলিক অ্যাড্রেস) দিয়ে শুধু কয়েন পাঠানো যায়, তোলা যায় না; তাই এটি দেওয়া মোটামুটি নিরাপদ। তবে ব্লকচেইন প্রকাশ্য বলে ঠিকানা জানলে যে কেউ সেই ঠিকানার লেনদেনের ইতিহাস দেখতে পারে।
ফোন হারালে কি ওয়ালেটের কয়েনও হারিয়ে যায়?
নন-কাস্টোডিয়াল ওয়ালেটে সিড ফ্রেজ নিরাপদে লেখা থাকলে নতুন ফোনে ওয়ালেট ফিরিয়ে আনা যায়। সিড ফ্রেজ না থাকলে কয়েন চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে।

সম্পর্কিত লেখা