শুরুর পাঠ

ইউএসডিটি (টেথার) কী? স্টেবলকয়েন কি সত্যিই নিরাপদ?

ইউএসডিটি হলো ডলারের সমান দাম ধরে রাখার লক্ষ্যে তৈরি একটি স্টেবলকয়েন। এটি কীভাবে কাজ করে, এর ঝুঁকি কী, আর বাংলাদেশে ইউএসডিটি নিয়ে যেসব প্রতারণা হয়, জানুন।

২ মিনিটে পড়া · সর্বশেষ যাচাই: ১৪ অক্টোবর ২০২৬

স্টেবলকয়েন কেন দরকার হলো?

বিটকয়েন বা ইথারের দাম দিনে ৫-১০% ওঠানামা করতে পারে। ক্রিপ্টো বাজারে এমন একটি টোকেনের চাহিদা ছিল, যার দাম স্থির থাকবে, যাতে লেনদেনের মাঝখানে মূল্য ধরে রাখা যায়। এভাবে এসেছে স্টেবলকয়েন: এমন টোকেন যার দাম কোনো স্থির সম্পদের, সাধারণত মার্কিন ডলারের সঙ্গে বাঁধা রাখার চেষ্টা করা হয়।

ইউএসডিটি (USDT), যা টেথার নামে পরিচিত, সবচেয়ে বড় স্টেবলকয়েন। ১ USDT-এর লক্ষ্য ১ ডলারের সমান থাকা।

কীভাবে দাম ১ ডলারে থাকে?

টেথার কোম্পানি দাবি করে, বাজারে যত ইউএসডিটি আছে, তার সমপরিমাণ সম্পদ (নগদ, মার্কিন সরকারি বন্ড ইত্যাদি) তাদের রিজার্ভে আছে। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে কোম্পানির কাছে ইউএসডিটি ফেরত দিয়ে ডলার নিতে পারে। এই আস্থার কারণেই দাম ১ ডলারের কাছে থাকে।

অর্থাৎ ইউএসডিটির নিরাপত্তা নির্ভর করে:

  1. রিজার্ভ আসলেই আছে কি না এবং কতটা নিরাপদ,
  2. কোম্পানির সততা ও আইনি অবস্থা,
  3. সংকটের সময় সবাই একসঙ্গে ফেরত চাইলে কোম্পানি দিতে পারবে কি না।

টেথারের রিজার্ভের স্বচ্ছতা নিয়ে অতীতে প্রশ্ন উঠেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে কোম্পানিটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে জরিমানা দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করেছে। ২০২২ সালে টেরা-ইউএসটি নামের আরেকটি বড় স্টেবলকয়েন কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় শূন্যে নেমে যায়। এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, "স্টেবল" মানেই নিশ্চিত নয়।

স্টেবলকয়েন বনাম ব্যাংকের ডলার

বিষয় ব্যাংকের টাকা/ডলার ইউএসডিটি
কে দেয় নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক বেসরকারি কোম্পানি
তদারকি কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশভেদে সীমিত বা অস্পষ্ট
আমানত বিমা অনেক দেশে আছে নেই
ভুল লেনদেন ফেরত অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব সাধারণত সম্ভব নয়

বাংলাদেশে ইউএসডিটি নিয়ে প্রতারণা

বাংলাদেশে প্রতারকরা ইউএসডিটিকে প্রায়ই ব্যবহার করে, কারণ এটি "ডলারের মতো" শোনায়। কয়েকটি সাধারণ কৌশল:

  • "ডলার ইনকাম" অ্যাপ: ইউএসডিটি জমা দিলে প্রতিদিন নির্দিষ্ট মুনাফার প্রতিশ্রুতি। ২০২৩ সালে ধসে পড়া এমটিএফই-ও এমন দাবি করত।
  • অনানুষ্ঠানিক কেনাবেচায় প্রতারণা: টাকা পাঠানোর পর ইউএসডিটি না দেওয়া, অথবা ভুয়া পেমেন্টের স্ক্রিনশট দেখানো।
  • ভুয়া ওয়ালেট বা এক্সচেঞ্জ অ্যাপ: আসল অ্যাপের মতো দেখতে, কিন্তু জমা দেওয়া টোকেন আর তোলা যায় না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২২ সালের সার্কুলার অনুযায়ী ব্যাংক বা বিকাশ-নগদের মতো মোবাইল আর্থিক সেবা দিয়ে ভার্চুয়াল সম্পদ কেনাবেচা নিষেধ। এমন লেনদেনে প্রতারিত হলে আইনি সুরক্ষা পাওয়াও কঠিন। দেখুন আইনি অবস্থা।

মনে রাখার মতো কথা

  • ইউএসডিটি ডলারের সমান থাকার চেষ্টা করে, কিন্তু এটি ডলার নয়।
  • এর মূল্য একটি কোম্পানির রিজার্ভ ও আস্থার ওপর নির্ভর করে।
  • "ইউএসডিটি জমা দিলে দৈনিক মুনাফা" প্রায় নিশ্চিতভাবেই প্রতারণা।

সাধারণ প্রশ্ন

ইউএসডিটির দাম টাকায় কত?
ইউএসডিটি মোটামুটি ১ ডলারের সমান, তাই টাকায় এর দাম প্রায় ডলারের বিনিময় হারের সমান। আজকের হিসাব দেখুন ইউএসডিটির দামের পাতায়।
ইউএসডিটি কি ডলারের মতোই নিরাপদ?
না। ইউএসডিটি একটি বেসরকারি কোম্পানির (টেথার) দেওয়া টোকেন, কোনো সরকারি মুদ্রা বা ব্যাংক আমানত নয়। এর মূল্য নির্ভর করে কোম্পানির রিজার্ভ ও তার ওপর বাজারের আস্থার ওপর।
কেউ বেশি দামে ইউএসডিটি কিনতে চাইছে, এটা কি ভালো সুযোগ?
সাবধান। বাজারদরের চেয়ে অস্বাভাবিক দাম, তাড়াহুড়ো আর অচেনা মাধ্যমে লেনদেন করতে বলা প্রতারণার সাধারণ লক্ষণ। তা ছাড়া বাংলাদেশে এ ধরনের লেনদেন আইনি ঝুঁকিও তৈরি করে।

সম্পর্কিত লেখা