শুরুর পাঠ

বিটকয়েন মাইনিং কীভাবে কাজ করে?

মাইনিং হলো বিটকয়েন নেটওয়ার্কে নতুন ব্লক যোগ করার প্রক্রিয়া, যার পুরস্কার হিসেবে নতুন বিটকয়েন তৈরি হয়। এর জন্য কেন বিপুল বিদ্যুৎ লাগে, আর "মোবাইলে মাইনিং" অ্যাপগুলো কেন প্রতারণা, জানুন।

২ মিনিটে পড়া · সর্বশেষ যাচাই: ১৪ অক্টোবর ২০২৬

মাইনিং কেন দরকার?

বিটকয়েনে কোনো কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান নেই। তাহলে প্রশ্ন হলো, খাতায় পরের পাতা (ব্লক) কে লিখবে, আর সবাই কেন তা মেনে নেবে? বিটকয়েনের উত্তর হলো প্রুফ অব ওয়ার্ক: যে প্রমাণ করতে পারবে যে সে প্রচুর কম্পিউটিং পরিশ্রম করেছে, সে পরের ব্লক লেখার সুযোগ পাবে।

প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে

  1. মাইনার অপেক্ষমাণ লেনদেনগুলো নিয়ে একটি ব্লক সাজান।
  2. এরপর একটি সংখ্যা খুঁজতে থাকেন, যা ব্লকের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে হ্যাশ করলে ফলাফল নির্দিষ্ট সংখ্যক শূন্য দিয়ে শুরু হয়। এটা লটারির মতো: অনুমান করা ছাড়া উপায় নেই, আর প্রতি সেকেন্ডে কোটি কোটি অনুমান করতে হয়।
  3. যিনি প্রথম মেলাতে পারেন, তিনি ব্লকটি নেটওয়ার্কে পাঠান। অন্যরা খুব সহজে যাচাই করে নেন যে উত্তর ঠিক।
  4. পুরস্কার হিসেবে তিনি নির্দিষ্ট পরিমাণ নতুন বিটকয়েন (ব্লক রিওয়ার্ড) ও লেনদেনের ফি পান।

গড়ে প্রায় ১০ মিনিটে একটি ব্লক যোগ হয়। মাইনার বাড়লে ধাঁধা নিজে থেকে কঠিন হয়ে যায়, যাতে এই গড় সময় ঠিক থাকে।

কেন এত বিদ্যুৎ লাগে?

প্রতিযোগিতায় জেতার সম্ভাবনা নির্ভর করে কে কত দ্রুত অনুমান করতে পারে তার ওপর। তাই বিশ্বজুড়ে মাইনাররা হাজার হাজার বিশেষ যন্ত্র (ASIC) চালান। এতে একটি মাঝারি আকারের দেশের সমান বিদ্যুৎ খরচ হয় বলে বিভিন্ন গবেষণায় অনুমান করা হয়েছে। এই বিদ্যুৎ খরচই নেটওয়ার্ককে নিরাপদ রাখে, কারণ জালিয়াতি করতে চাইলে এর চেয়েও বেশি শক্তি লাগবে। আবার পরিবেশগত সমালোচনার প্রধান কারণও এটিই।

বাংলাদেশে মাইনিং: বাস্তবতা

  • খরচ: একটি আধুনিক মাইনিং যন্ত্রের দাম কয়েক লাখ টাকা, আর এটি দিন-রাত চালাতে প্রচুর বিদ্যুৎ লাগে। আবাসিক বিদ্যুতের দামে লাভ হওয়া প্রায় অসম্ভব।
  • আইনি ঝুঁকি: বাংলাদেশে ভার্চুয়াল মুদ্রার লেনদেন অনুমোদিত নয়। মাইনিং থেকে পাওয়া বিটকয়েনও সেই আওতার বাইরে নয়। দেখুন আইনি অবস্থা।
  • প্রতারণা: "মাইনিং মেশিনে বিনিয়োগ করুন, মাসে নির্দিষ্ট লাভ" বা "ফোনে মাইনিং" ধরনের প্রস্তাব প্রায় সবসময়ই প্রতারণা।

কোনো অ্যাপ যদি বলে "শুধু অ্যাপ খুলে রাখলেই বিটকয়েন আয়", আর আয় তুলতে আগে টাকা জমা দিতে বলে, সেটা প্রতারণা। দেখুন ক্রিপ্টো প্রতারণা চেনার উপায়।

মনে রাখার মতো কথা

  • মাইনিং নেটওয়ার্কে নতুন ব্লক যোগ করে এবং নতুন বিটকয়েন তৈরি করে।
  • এখন এর জন্য বিশেষ যন্ত্র ও বিপুল বিদ্যুৎ লাগে; ফোন বা সাধারণ কম্পিউটারে কার্যকর নয়।
  • নিশ্চিত আয়ের মাইনিং প্রকল্প সাধারণত প্রতারণা।

সাধারণ প্রশ্ন

মোবাইল ফোনে কি বিটকয়েন মাইনিং করা যায়?
বাস্তবে না। বিটকয়েন মাইনিংয়ে এখন বিশেষ যন্ত্র (ASIC) ও বিপুল বিদ্যুৎ লাগে; একটি ফোনের ক্ষমতা তার তুলনায় নগণ্য। "ফোনে মাইনিং করে আয়" দাবি করা অ্যাপগুলো সাধারণত বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আয় করে, অথবা টাকা জমা নিয়ে প্রতারণা করে।
ক্লাউড মাইনিং কী?
টাকা দিয়ে দূরের কোনো মাইনিং যন্ত্রের "ভাড়া" কেনা। অনেক ক্লাউড মাইনিং প্রকল্প আসলে পঞ্জি স্কিম ছিল, যেখানে নতুন গ্রাহকের টাকা দিয়ে পুরোনোদের "মুনাফা" দেওয়া হতো।

সম্পর্কিত লেখা