নিরাপত্তা ও প্রতারণা

ভুয়া ক্রিপ্টো অ্যাপ, ওয়েবসাইট ও ফিশিং চেনার উপায়

নামকরা এক্সচেঞ্জ বা ওয়ালেটের নকল অ্যাপ, ভুয়া এয়ারড্রপ সাইট আর ফিশিং মেসেজ দিয়ে প্রতিদিন মানুষ সর্বস্ব হারান। কীভাবে চিনবেন আর কী করবেন, জানুন।

১ মিনিটে পড়া · সর্বশেষ যাচাই: ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ফিশিং কী?

ফিশিং মানে আসল প্রতিষ্ঠানের ছদ্মবেশে আপনার পাসওয়ার্ড, ওটিপি বা সিড ফ্রেজ হাতিয়ে নেওয়া। ক্রিপ্টোতে এর ক্ষতি বেশি, কারণ চুরি হওয়া কয়েন ফেরত আনা প্রায় অসম্ভব।

সাধারণ কৌশলগুলো

নকল অ্যাপ

নামকরা এক্সচেঞ্জ বা ওয়ালেটের মতো নাম ও লোগো। প্রায়ই ফেসবুক বিজ্ঞাপন বা টেলিগ্রাম লিংক থেকে এপিকে ফাইল নামাতে বলা হয়। অ্যাপে ব্যালেন্স দেখায়, কিন্তু টাকা তোলা যায় না।

ভুয়া ওয়েবসাইট

আসল ঠিকানার সঙ্গে এক-দুটি অক্ষরের তফাত, যেমন binance এর জায়গায় blnance বা অতিরিক্ত শব্দ জোড়া দেওয়া ঠিকানা। গুগলে বিজ্ঞাপনের লিংকও ভুয়া হতে পারে।

"এয়ারড্রপ" ও "ফ্রি টোকেন"

"আপনি ৫০০ ডলারের টোকেন জিতেছেন, ক্লেইম করতে ওয়ালেট কানেক্ট করুন"। ওয়ালেট কানেক্ট করে একটি অনুমতিতে সই করলেই আপনার কয়েন সরিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা প্রতারকের হাতে চলে যায়।

ভুয়া কাস্টমার সাপোর্ট

সামাজিক মাধ্যমে সমস্যার কথা লিখলে সঙ্গে সঙ্গে "অফিশিয়াল সাপোর্ট" থেকে মেসেজ আসে। আসল প্রতিষ্ঠান কখনো ইনবক্সে এসে সিড ফ্রেজ বা রিমোট অ্যাক্সেস চায় না।

ক্লিপবোর্ড ম্যালওয়্যার

কপি করা ওয়ালেট ঠিকানা গোপনে বদলে প্রতারকের ঠিকানা বসিয়ে দেয়।

নিজেকে রক্ষার চেকলিস্ট

  • লিংকে ক্লিক না করে ঠিকানা নিজে টাইপ করুন বা আগে সেভ করা বুকমার্ক ব্যবহার করুন।
  • অ্যাপ শুধু অফিশিয়াল স্টোর থেকে, ডেভেলপারের নাম মিলিয়ে নামান।
  • কোনো মেসেজের লিংকে সিড ফ্রেজ, পাসওয়ার্ড বা ওটিপি দেবেন না।
  • অচেনা "এয়ারড্রপ" বা "ফ্রি টোকেন" উপেক্ষা করুন।
  • পাঠানোর আগে ঠিকানার শুরু ও শেষের অক্ষর মিলিয়ে নিন।
  • ফোনে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখুন, আর সিম কার্ডে পিন দিন।

বিকাশ বা নগদের নামে আসা "আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে" ধরনের ফিশিং এসএমএসও একই কৌশলে চলে। পিন ও ওটিপি কখনো কাউকে দেবেন না।

মনে রাখার মতো কথা

  • আসল প্রতিষ্ঠান কখনো সিড ফ্রেজ, পিন বা ওটিপি চায় না।
  • লিংকে ক্লিক না করে ঠিকানা নিজে যাচাই করুন।
  • "ফ্রি টোকেন" প্রায় সবসময় ফাঁদ।

সাধারণ প্রশ্ন

প্লে স্টোরে থাকলেই কি অ্যাপ নিরাপদ?
না। নকল অ্যাপ মাঝে মাঝে প্লে স্টোরেও ঢুকে পড়ে। ডেভেলপারের নাম, ডাউনলোড সংখ্যা, রিভিউ আর অ্যাপের প্রকাশের তারিখ মিলিয়ে দেখুন। তবে সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো প্লে স্টোরের বাইরের লিংক থেকে এপিকে ফাইল নামানো।
ভুল করে ফিশিং সাইটে সিড ফ্রেজ দিয়ে ফেললে কী করব?
ধরে নিন ওয়ালেটটি আর নিরাপদ নয়। যত দ্রুত সম্ভব প্রতারকের আগে কয়েন সরানোর চেষ্টা করা ছাড়া উপায় নেই, আর অনেক সময় প্রতারকরা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সব সরিয়ে নেয়। পরে থানায় ও সাইবার পুলিশে অভিযোগ করুন।

সম্পর্কিত লেখা