আরও গভীরে
ক্রিপ্টোর দাম এত ওঠানামা করে কেন?
বিটকয়েন এক বছরে অর্ধেক হয়ে যেতে পারে, আবার দ্বিগুণও হতে পারে। চাহিদা-জোগান, জল্পনা, ঋণ নিয়ে ট্রেডিং, খবর আর টাকার বিনিময় হার কীভাবে দামকে নাড়ায়, বুঝে নিন।
২ মিনিটে পড়া · সর্বশেষ যাচাই: ১৪ অক্টোবর ২০২৬
দাম ঠিক হয় কীভাবে?
ক্রিপ্টোর দাম ঠিক হয় এক্সচেঞ্জে কেনাবেচার চাপ দিয়ে। কেউ বেশি দামে কিনতে চাইলে দাম ওঠে, কেউ কম দামে বেচতে চাইলে নামে। শেয়ারের পেছনে কোম্পানির আয় থাকে, আর টাকার পেছনে থাকে সরকার। ক্রিপ্টোর দামের পেছনে মূলত মানুষের প্রত্যাশা ও আস্থা কাজ করে। আস্থা দ্রুত বদলায়, তাই দামও দ্রুত বদলায়।
দাম নাড়ানোর প্রধান কারণগুলো
১. জল্পনা ও আবেগ
অনেকে ভবিষ্যতে দাম বাড়বে এই আশায় কেনেন। দাম বাড়লে আরও মানুষ "সুযোগ হারানোর ভয়ে" (FOMO) কেনেন, আর দাম পড়লে আতঙ্কে বিক্রি করেন। ফলে ওঠা-নামা দুই দিকেই বাড়াবাড়ি হয়।
২. ঋণ নিয়ে ট্রেডিং (লেভারেজ)
অনেক ট্রেডার ধার করা অর্থে ১০ বা ১০০ গুণ বড় অবস্থান নেন। দাম সামান্য উল্টো দিকে গেলেই তাঁদের অবস্থান জোর করে বিক্রি (লিকুইডেশন) হয়, আর সেই বিক্রির চাপে দাম আরও নামে। একের পর এক লিকুইডেশনে কয়েক ঘণ্টায় বড় পতন হতে পারে।
৩. বড় খবর ও ঘটনা
- বড় দেশের নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্ত (অনুমোদন বা নিষেধাজ্ঞা)
- এক্সচেঞ্জ হ্যাক বা দেউলিয়া হওয়া (যেমন ২০২২ সালে এফটিএক্স)
- বড় প্রতিষ্ঠানের কেনা বা বেচার খবর
৪. বৈশ্বিক অর্থনীতি
যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে যান। ক্রিপ্টো এ ক্ষেত্রে প্রায়ই প্রযুক্তি শেয়ারের মতো আচরণ করে।
৫. ছোট বাজার ও "তিমি"
ছোট কয়েনগুলোর বাজার ছোট। অল্প কয়েকজন বড় মালিক ("তিমি") চাইলেই দাম অনেক নাড়াতে পারেন। পাম্প-অ্যান্ড-ডাম্প প্রতারণা এখান থেকেই শুরু হয়।
৬. টাকার বিনিময় হার
বাংলাদেশ থেকে দেখলে আরেকটি স্তর আছে: ডলার-টাকার হার। ২০২২ সালের পর টাকার উল্লেখযোগ্য অবমূল্যায়ন হয়েছে, তাই টাকায় হিসাব করা দাম ডলারের হিসাবের চেয়ে ভিন্ন গতিতে চলেছে।
ইতিহাসের কয়েকটি বড় পতন
| সময় | ঘটনা | প্রায় পতন (সর্বোচ্চ থেকে) |
|---|---|---|
| ২০১৪ | এমটি গক্স এক্সচেঞ্জের পতন | ~৮০% |
| ২০১৮ | ২০১৭-র উত্থানের পর মন্দা | ~৮০% |
| ২০২২ | টেরা-লুনা ও এফটিএক্স ধস | ~৭৫% |
সংখ্যাগুলো আনুমানিক, বিটকয়েনের ডলার দামের ভিত্তিতে।
আজকের দাম ও সাম্প্রতিক পরিবর্তন দেখুন বিটকয়েনের দামের পাতায়।
"দাম পড়েছে, এখনই কেনার সময়" বা "এটা আর নামবে না" জাতীয় নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী কেউ করতে পারে না। যে টাকা হারালে জীবনে প্রভাব পড়বে, তা দিয়ে ঝুঁকি নেওয়া বিপজ্জনক, আর বাংলাদেশে ক্রিপ্টো লেনদেন অনুমোদিতও নয়।
মনে রাখার মতো কথা
- ক্রিপ্টোর দাম মূলত প্রত্যাশা ও আস্থার ওপর চলে, তাই খুব দ্রুত বদলায়।
- লেভারেজ, খবর, বৈশ্বিক সুদের হার ও ছোট বাজার ওঠানামা বাড়ায়।
- টাকায় দাম দেখার সময় ডলার-টাকার হারের প্রভাবও মাথায় রাখুন।
সাধারণ প্রশ্ন
বিটকয়েনের দাম সর্বোচ্চ থেকে সবচেয়ে বেশি কত কমেছে?
টাকায় বিটকয়েনের দাম বাড়লে কি ডলারেও বাড়ে?
সম্পর্কিত লেখা
বিটকয়েন হালভিং কী? প্রতি চার বছরে কী বদলায়
হালভিং হলো বিটকয়েন মাইনারদের পুরস্কার অর্ধেক হয়ে যাওয়ার নির্ধারিত ঘটনা, যা প্রায় প্রতি চার বছরে ঘটে। আগের…
বাংলাদেশে ক্রিপ্টোর ঝুঁকি: আইনি, আর্থিক ও প্রতারণা
বাংলাদেশে ক্রিপ্টো লেনদেন অনুমোদিত নয়। তার ওপর প্রতারণা, দামের অস্থিরতা ও টাকা ফেরত না পাওয়ার ঝুঁকি আছে। কোন কোন…
ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ কী? কাস্টডির ঝুঁকি ও এফটিএক্সের শিক্ষা
ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ হলো ক্রিপ্টো কেনাবেচার অনলাইন বাজার। এক্সচেঞ্জ কীভাবে কাজ করে, সেখানে কয়েন রাখার ঝুঁকি কী, আর…